১৯৯৫ সালে মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী প্রতিষ্ঠা করেন ‘হেযবুত তওহীদ’ নামক একটি দল।হেযবুত তওহীদের সর্বোচ্চ নেতাকে বলা হয় ‘এমাম’।তার মতে,বর্তমান প্রচলিত ইসলাম প্রকৃত ইসলাম নয়, এ ইসলামম বিকৃত, বাতিল। তাহলে প্রকৃত ইসলাম কোনটা?
হ্যাঁ হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতা মিঃ পন্নী দাবি করেছেন- প্রকৃত ইসলাম আল্লাহ মো’জেজার মাধ্যমে তাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন।নাউযুবিল্লাহ। ইসলাম বিকৃত হয়ে গিয়েছে ১৩০০ বছর আগেই। গোটা বিশ্বের মুসলমান জাতিগতভাবে কাফের ও মুশরিক হয়ে গিয়েছে। দীর্ঘ ১৩০০ বছর পর প্রকৃত এসলাম খুঁজে পেয়েছেন টাঙ্গাইলের হোমিওপ্যাথী ডাক্তার ‘বায়াজীদ খান পন্নী’। ইসলামকে তিনি একটি নতুন রূপ দেয়ার চেষ্টা করেন।সেগুলো হলো – সালাতকে পরিণত করেন আর্মি ট্রেনিংএ, হজ্ব কনফারেন্স, বোরকার শয়তানের আবিষ্কার মেয়েদের বাক্সবন্ধি করে রেখেছে, বাজারে পত্রিকা বিক্রি জিহাদ, স্বামীর সংসার ছেড়ে যাওয়া হেজরত, বাদ্যসহ গান বাজনা এসলামের অংশ নবীজী অবসর সময়ে গান শুনতেন, ইসলাম বিকৃত হয়ে গেছে, ইহুদি-খ্রিস্টান সভ্যতায ই দাজ্জাল এখন যৌবন বয়সে উপনীত হয়ে আছে,বায়েজিদ আল্লাহ র মনোনীত এমাম, সকল আলেম ধর্মব্যবসায়ী, দাড়ি টুপির সাথে এসলামের কোন সম্পর্ক নেই,সকল ধর্মের লোক ই জান্নাতে যাবে।শুধু তাই নয়, তার দল এবং তাকে সত্যায়ণ করার জন্য আল্লাহ মু’জিযা সংঘটন করেছেন বলেও প্রচার করেন। কিন্তু ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা। কোনো ধরনের ইলহাম কিংবা মু’জিজা নয় বরং পাকিস্তানের ‘তেহরীকে খাকছারের’ প্রতিষ্ঠাতা এনায়েতুল্লাহ খান মাশরেকির মৃত মতবাদগুলোকেই আমদানি করেছেন বায়াজীদ খান পন্নী। তাওহীদের অন্তরালে লুকায়িত তাদের কুফরী মতবাদ সম্পর্কে অবগত নয় সাধারণ মানুষ। তাই বাহ্যিক মনভুলানো কথায় মোহাবিষ্ট হয়ে ভ্রান্তির শিকার হচ্ছে হাজারো মানুষ।
এসব যদি ইসলামের অংশ হয় তাহলে পাপ হয় কিসে???
উগ্রপন্থী , জঙ্গী সংগঠন হেযবুত তওহীদ , মৌলবাদি, ইত্যাদি নামে পরিচিত ছিল এই জঙ্গী দলটি।২০০৮ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকায় কালো তালিকাভুক্ত হয় সংগঠনটি।হেযবুত তওহীদ বাংলাদেশ ভিত্তিক একটি ধর্মভিত্তিক সংগঠন যারা জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কালো তালিকাভুক্ত। সমগ্র দেশে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ছিল জঙ্গী তৎপরতার কারনে । ২০০৯ সালে জঙ্গী দল সমূহের হট লিস্টে আবারো নাম আসার পর এই চতুর ও ক্ষনে ক্ষনে রুপ পাল্টানো জঙ্গী দলটি সরকার সমাজ সারা দেশ ও জাতির সামনে ভাল সাজতে দ্রুত সাংগঠনিক চেহারা বদলাতে থাকে । তাদের পত্রিকার নাম ছিল ”দেশের পত্র” সেটা বদলে নতুন নাম করে ”বজ্রশক্তি” । তাদের বইতে রয়েছে জঙ্গীবাদি আকীদা দিয়ে ভরা । সেগুলো থেকে প্রশাসনের দৃস্টি এড়াতে বইতে নতুন নতুন অধ্যায় যোগ করে , প্রশাসনের বড় পদে থাকা লোকদের সাথে যোগশোজ রেখে এবং তাাদের শ্লোগান ও প্রোগ্রামে জঙ্গীবাদের বিপক্ষে লোকদেখানো বক্তব্য ,নারী প্রগতি ,ধর্মব্যবসা ইত্যাদি ভাল ভাল কথা শ্লোগান দিয়ে চোখে ধুলো দেয়ার চেস্টা করলেও ভিতরে ভিতরে ঠিকই চলছে বড়সর অপারেশন বিপ্লবের পরিকল্পনা ।