দেশের কোথাও কোনো হামলা হলেই কোনরূপ তদন্ত ছাড়াই এর দায় চাপানো হচ্ছে বিএনপি, জামায়াত-শিবিরসহ বিরোধী দলের উপর। এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। তারা জানান, প্রতিটি হামলার পরই নিজস্ব ওয়েবসাইটে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আইএস, জেএমবিসহ অন্যকোন সন্ত্রাসী সংগঠন দায় স্বীকার করে। তা সত্ত্বেও সরকার বিরোধীদলের জড়িত থাকার দাবি করে। বিশেষ করে সরকার জামায়াত-শিবির এবং বিএনপি নেতাকর্মীদেরই টার্গেট করে বক্তব্য দিতে থাকে। জঙ্গিদের না ধরে নিরীহ ছাত্রদের গ্রেফতার করে তাদের শিক্ষাজীবনকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে দেখা গেছে, ক্ষমতাসীনরা বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার কথা ফলাও করে প্রচার করলেও প্রকৃতপক্ষে হামলাকারীদের অনেকেই সরকারদলীয় কতিপয় প্রভাবশালী নেতার সন্তান বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। গুলশান, কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতাদের জড়িত থাকার তথ্য বের হওয়ায় রহস্য উদঘাটনে আইনশৃংখলা বাহিনীর আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। দেশের অর্ধ শতাধিক ভয়াবহ জঙ্গি হামলার সাথে আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য ও তাদের আত্মীয়রা জড়িত থাকলেও সরকার জঙ্গি দমনের নামে বিএনপি-জামায়াত, শিবির এবং সাধারণ মানুষদের গ্রেফতার করছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ বলেন, উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের মদদদাতা বর্তমান এই আওয়ামী লীগ ও তাদের অনৈতিক ভোটারবিহীন সরকার। আওয়ামী লীগের কট্টরপন্থী অনেক নেতার ছেলেরাই এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই সরকার হচ্ছে পুতুল সরকার। এদের পিছনে রয়েছে ভারত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের ইতিহাসে যে সকল সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে তার সাথে জেএমবি, আইএস সহ কয়েকটি সন্ত্রাসী সংগঠন জড়িত। সরকার সব সময়ই এসব অস্বীকার করে বিরোধীদলের মদদে দেশীয় জেএমবিকে দায়ী করছে এসব হামলার জন্য। জেএমবির বিষয়ে জানা যায়, ২০০৪ সালের ১৭ আগস্ট ৬৩ জেলার একযোগে বোমা হামলা করে আলোড়ন তুললেও জেএমবি প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে। জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শায়খ আব্দুর রহমান আওয়ামী সরকারের বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আযমের ভগ্নিপতি। গত ৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে জেএমবির প্রধানসহ শীর্ষদের ধরে ফাঁসি দেয়া হলে দেশে জঙ্গি কার্যক্রম অনেকটা বন্ধ হয়ে যায়। গত ৮ বছর ধরে দেশে জঙ্গি বিরোধী দুর্বার অভিযান না থাকায় জঙ্গিরা আবার দেশে বিদেশে সক্রিয় হয়ে শক্তিশালী ঘাটি তৈরি করে ফেলে। হামলা চালায় দেশে-বিদেশী বিশেষ ব্যক্তিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায়।
সূত্র মতে, সম্প্রতি রাজধানীর সুরক্ষিত গুলশান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর গত আড়াই বছর ধরে দেশজুড়ে আইএসের নামে অর্ধশতাধিক জঙ্গি হামলার রহস্য উদঘাটন নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে দেশি বিদেশি তদন্ত সংস্থাগুলো। প্রতিটি হামলার পরই নিজস্ব সাইটে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আইএস দায় স্বীকার করলেও সরকার এতদিন বিরোধীদলীয় মদদে জেএমবিসহ দেশীয় সন্ত্রাসীদের জড়িত থাকার দাবি করলেও তদন্তে সরকারদলীয় কতিপয় প্রভাবশালী নেতা এবং তাদের সন্তানদের জড়িত থাকার তথ্য বেড়িয়ে পড়ছে। দেশের অর্ধ শতাধিক ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হলেও এখনো মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করতে না পারায় আরো ভয়ঙ্কর হামলার আশঙ্কায় দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করার কথা বলছে পুলিশ।
জানা গেছে, গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলায় ২০ বিদেশিকে হত্যার পর সাইট ইন্টিলিজেন্সে ৫ জঙ্গির ছবি প্রকাশের পরই আলোচনায় আসে আওয়ামী লীগ নেতার পুত্র। গুলশানে জঙ্গি হামলা পরিচালনাকারী দলের সদস্য রোহান আওয়ামী নেতা ইমতিয়াজ খান বাবুলের একমাত্র পুত্র। গত বছরের ২৮ এপ্রিল ডিসিসি নির্বাচনে ৩১ নং ওয়ার্ড মোহম্মদপুর আদাবর এলাকায় ইমতিয়াজ খান বাবুল ঢাকা মহানগর উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন। রেডিও প্রতীক নিয়ে তিনি নির্বাচন করেছেন। স্থানীয় এমপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গির কবির নানকের তিনি ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। ঐ বছরের ২৩ এপ্রিল বাবুলকে ভোট দেয়ার জন্য মোহাম্মদপুর আদাবর এলাকার ভোটারদের কাছে আবেদন জানান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক এমপি। নিহত জঙ্গি রোহানের বাবা ইমতিয়াজ খান বাবুল ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য হাজী মকবুলের শ্যালক। গুলশান হামলার পর সাইট ইন্টেলিজেন্স হামলাকারী হিসেবে যেসব জঙ্গির ছবি প্রকাশ করে সেখান থেকে রোহানের পরিবারের এক ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করে তার পরিচিতজনরা। জঙ্গি রোহান ইমতিয়াজের ছবির সঙ্গে বেরিয়ে আসে তার পারিবারিক তথ্যও। ফেসবুকে ইমতিয়াজ খান বাবুলের সঙ্গে তার ছেলে রোহান ইমতিয়াজের ছবিও পোস্ট করা হয়েছে। ইমতিয়াজ খান বাবুলের নির্বাচনি লিফলেটের তথ্য অনুযায়ী তিনি ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল, সাইকিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও ফিবার রেফারি। নির্বাচনী লিফলেটে তিনি উল্লেখ করেন, শৈশব থেকে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ভাবাদর্শে নিজের জীবন গড়ে তুলেছেন। বঙ্গবন্ধুর আর্দশে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। তিনি ৩১ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেব দায়িত্ব পালন করেছেন। রোহানের মা স্কলাসটিকা স্কুলের একজন শিক্ষিকা, মা-বাবার একমাত্র পুত্র সন্তান রোহানের দুই বোন আছে এবং তারা মোহাম্মদপুরে বসবাস করেন বলে জানা গেছে। এছাড়া কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর এক জঙ্গিকে বাসায় লুকিয়ে রেখে মিথ্যা বলার জন্য আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হান্নান ভূইয়া বাবুল ও তার পরিবারের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ তিনদিন জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়। পুলিশের অভিযোগ, র‌্যাবের হেফাজতে আটক জঙ্গি আবু মোকাদ্দেমকে আওয়ামী লীগ নেতা বাবুল তার বাসায় লুকিয়ে রেখেছিল। পরে পুলিশ বাসায় তল্লাশি করে খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করে। পুলিশকে এ বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছে। এজন্যে ঈদের দিন থেকে তিনদিন বাবুল, স্ত্রী ও দুই মেয়েকে পুলিশ আটক করেছিল। মামলা হওয়ার পর পুলিশ তাদের আসামি না করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়।
সূত্র মতে, গুলশান ও শোলাকিয়ায় ভয়াবহ হামলার পর আরো হামলার হুমকিতে আইএস-এর নতুন দেয়া ভিডিওতে যে তিনজনকে হুমকি দিতে দেখা গেছে তাদের মধ্যে দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এক জঙ্গির নাম হচ্ছে তাহমিদ রহমান শাফি। তার বাবা শফিউর রহমান সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব, জনতার মঞ্চের নেতা ও নির্বাচন কমিশনার ছিলেন। ৯৬ সালে বিএনপি সরকারের পতনের জন্য প্রশাসনের আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তারা যে জনতার মঞ্চ করেছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন খান আলমগীর ও সচিব শফিউর রহমান ওই মঞ্চের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি ওই সময় পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। জনতার মঞ্চে নেতৃত্ব দেয়ার পুরস্কার হিসেবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে তাকে স্বরাষ্ট্র সচিব এবং পরে সংস্থাপন (বর্তমানে জনপ্রশাসন) সচিব করেছিলো। চাকরির বয়স শেষে শফিউর রহমানকে আওয়ামী লীগ সরকার আনুগত্যের পুরস্কার হিসেবে নির্বাচন কমিশনারও করেছিলো। গুলশানের জঙ্গি হামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হামলার দুই মাস আগে বনানীতে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বাড়ির একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয় তরুণরা। সেখান থেকেই তারা হামলার ছক কষে। এই প্রভাবশালীর সঙ্গে কথা বলেছেন তদন্তকারীরা। কেন তিনি ফ্ল্যাট ভাড়া দেয়ার তথ্য পুলিশকে জানাননি। জবাবে তিনি বলেছেন, কেয়ারটেকারই ভাড়া দিয়েছিল। ওই কেয়ারটেকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে গোয়েন্দারা। তবে তার কাছ থেকে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে জানা যায়, প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগসাজশে সেখানে অনেক প্রভাবশালীই জড়িত থাকতে পারে। এছাড়াও বহুল আলোচিত সিঙ্গাপুরে জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত ৪ বাংলাদেশির একজন জাবেদ কায়সার ওরফে কায়েস চট্টগ্রামের স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর হরিণা গ্রামের বাসিন্দা এই আওয়ামী লীগ নেতার নাম নুরুল ইসলাম। নুরুল ইসলাম সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আধুনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন। জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে গত ১২ জুলাই সিঙ্গাপুরের আদালত চার জঙ্গিকে দুই থেকে পাঁচ বছরের কারাদন্ড দেয়। এদের মধ্যে আড়াই বছরের সাজা দেয়া হয় কায়েসকে। অপর তিন জঙ্গির মধ্যে দল নেতা মিজানুর রহমানকে (৩১) পাঁচ বছর, রুবেল মিয়াকে (২৬) দুই বছর এবং ইসমাইল হাওলাদার সোহেলকে (২৯) আড়াই বছরের সাজা দেয়া হয়। জাবেদ একজন ইলেকট্রিক টেকনেশিয়ান হিসেবে সিঙ্গাপুর গিয়ে জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িয়ে যায়।
এদিকে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের চাচাতো ভাই মুনতাসিরুল আলম অনিন্দ্যর বিরুদ্ধে জঙ্গি হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অনিন্দ্যের আপন ছোট চাচা মাহফুজুল আলম লোটন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। অনিন্দ্যের বিরুদ্ধে জঙ্গি কানেকশনের প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত পাওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। জানা যায়, এসএসসি ও এইচএসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন অনিন্দ্য। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তির পর ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যোগ দিলেও ক্রমেই জঙ্গি তৎপরতায় জড়িয়ে পড়েন। গত ২৩ এপ্রিল সকালে বাড়ির পাশেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। মহানগর পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিার্থী অনিন্দ্য ও শরিফুল জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে। শরিফুল জঙ্গি কানেকশনের পর থেকে নিখোঁজ। জঙ্গি সম্পৃক্ততার তথ্য থাকায় অনিন্দ্যকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) একেএম নাহিদুল ইসলাম বলেছেন, অধ্যাপক রেজাউল হত্যায় জঙ্গিরা জড়িত এটি এখন নিশ্চিত হয়ে গেছে। আর অনিন্দ্য ও শরিফুলের নেতৃত্বে সাতজনের একটি জঙ্গি গ্রুপ সক্রিয় থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। তারাই মূলত এ হত্যায় জড়িত বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, খালেদা জিয়ার জাতীয় ঐক্যের যে আহবান জানিয়েছেন তাতে সাড়া না দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে জঙ্গি হামলার ঘটনার সঙ্গে সরকারের সম্পৃক্ততা রয়েছে । তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে বিএনপি নেত্রী জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের নেতারা যে নেতিবাচক কথা বলছেন, তাতে জনগণের সন্দেহ আরো প্রকট হচ্ছে যে, ওই ঘটনার সাথে সরকার সম্পৃক্ত কিনা? যদি না হয়, তাহলে সঙ্কট মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্য গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে না কেন? তিনি বলেন, গুলশানে সন্ত্রাসী হামলার পর প্রথম দিকে সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের মুখ বন্ধ ছিল। দুই-তিনদিন জামায়াত-শিবির-বিএনপির নাম আসে নাই। দশ দিন রিহার্সেল দিয়ে তারা নাসিম-ইনুদের মাঠে নামালো। সকলের ভাষা এক- খালেদা জিয়া জঙ্গিবাদী। মানুষের কাছে এটা চরম বিরক্তিকর। দেশবাসী জানে, পত্রপত্রিকায় কাদের জড়িত থাকার খবর প্রকাশিত হচ্ছে। আমরা সেটি নিয়ে বিশ্লেষণ করতে চাইনা।
সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তদের সাথে জামায়াত-শিবিরের কোন ধরনের সম্পর্ক থাকার প্রশ্নই আসে না বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, দেশে সংঘঠিত জঙ্গি হামলার সাথে জামায়াত-শিবিরের নূন্যতম কোনো সম্পর্ক নেই। আদর্শিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে সরকার ও তাদের এজেন্ট মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। খুনি, সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তের কারো সাথে জামায়া-ছাত্রশিবিরের কোন ধরনের সম্পর্ক থাকার প্রশ্নই আসে না। জামায়াত-শিবির হত্যা ও খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।
সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আজাদ আরও বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাদের পরিবারের সদস্যদের জঙ্গি কানেকশনের খবর থেকে দেশবাসীর দৃষ্টি ভিন্ন দিকে ফেরানোর উদ্দেশ্যেই মন্ত্রীরা জামায়াতকে জড়িয়ে ভিত্তিহীন মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে পানি ঘোলা করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এভাবে মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে যে মন্তব্য সরকারি দল করছে তার মধ্যে সত্যের লেশমাত্রও নেই। দেশবাসী সকলেই জানেন যে, জেএমবির নিহত সাবেক নেতা শায়খ আবদুর রহমান আওয়ামী লীগ নেতা মির্যা আযমের ভগ্নিপতি এবং গুলশানে রেস্টুরেন্টে যে ৫ জন জঙ্গি হামলা চালিয়েছে তাদের মধ্যে একজন হলো আওয়ামী লীগের নেতা ইমতিয়াজ খান বাবুলের পুত্র রোহান ইবনে ইমতিয়াজ। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এবং আওয়ামী লীগের নেতা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের চাচাতো ভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র লীগের নেতা মুনতাসিরুল ইসলাম অনিন্দ্যর সাথে জঙ্গি কানেকশনের কথা গত ১২ ও আজ ১৩ জুলাই জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন, কোন জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সাথে যেমন জামায়াতের কোন সম্পর্ক নেই, তেমনি আইএস ও মোসাদের সাথে জামায়াতের সম্পর্ক থাকার প্রশ্নই আসে না।