দীর্ঘ ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআ’তুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ-জে এম বি’র ৩৫ সক্রিয় সদস্যকে আইনের আওতায় আনা যায়নি। ২০০৫ সালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে বোমা বিস্ফোরণ এবং আত্মঘাতী বোমা হামলার সাথে জড়িত এসব জঙ্গি সদস্যদের নাম পাওয়া গেলেও বিস্তারিত ঠিকানা না পাওয়ার কারণে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।

এ অবস্থায় তারা অন্য কোনো সংগঠনের সাথে জড়িয়ে পড়লো কি না তা নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট চট্টগ্রামের ২০টি স্থানসহ দেশের ৬৩ জেলায় এক যোগে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দেয় জে এম বি। সারাদেশে বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য বোমা তৈরির বিস্ফোরক পাঠানো হয়েছিলো চট্টগ্রাম থেকেই। এরপর পুরো বছর ধরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা চালায় জঙ্গি সংগঠনটি। আর এ সময় চিহ্নিত করা হয় অন্তত ৬০ জঙ্গি সদস্যকে। কিন্তু এর বিশাল একটি অংশ রয়ে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সিএমপি অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) এস এম তানভীর আরাফাত বলেন, ‘১৭টি মামলায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন আসামি ছিল। তাদের বেশ কয়েক জনকে আমরা আটক করেছিলাম। দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও বেশ কিছু জঙ্গি আটক হয়েছিল। এছাড়া ৩৫ থেকে ৩৬ জনের নাম পেলেও তাদের ঠিকানা না পাওয়ায় আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।’
এক্ষেত্রে চিহ্নিতদের আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে জঙ্গিদের লাগাম টানতে না পারায় দেশে জঙ্গি তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার আশংকা আইনজীবীদের।
জেলা জজ ও দায়রা আদালত পি পি অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম বলেন, ‘আসামি শনাক্ত করা, তাদের সাজা দেওয়া বা তাদের সাক্ষী উপস্থাপনের ক্ষেত্রে অনেক জটিলতা সৃষ্টি করে আইনের বিভ্রাট সৃষ্টি করায় মামলা খারিজ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।’

মহানগর দায়রা জজ আদালত পি পি অ্যাডভোকেট ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘গ্রেফতার না করলে জঙ্গি তৎপরতা বেড়ে যাবে। এটা থামানো যাবে না।’
তবে, পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা সিএমপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, ‘পলাতক জঙ্গিদের গ্রেফতারে পুলিশের তৎপরতা থেমে নেই।’
চিহ্নিত ৩৫ জঙ্গিকে আইনের আওতায় আনতে না পারার পাশাপাশি গ্রেফতারকৃত আরও কয়েকজন জঙ্গি জামিনে মুক্তি পেয়ে পলাতক রয়েছে।