শেখ মুজিবের দল আওয়ামী লীগ এর ধর্ষণে বীভৎস ও বিকৃর্ত ইতিহাস রয়েছে । শেখ হাসিনাকে বলা হয় ধর্ষকদের গডমাদার। কাজেই তার জারজ সন্তানরা দেশটাকে কলুষিত করেছে এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ধর্ষণ সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর খবরটি পাওয়া গিয়েছিল বেশ কয়েক বছর আগে। ঘটনাটি ঘটেছিল জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। সন ১৯৯৮। মানিক নামে ছাত্রলীগের একজন প্রভাবশালী ক্যাডার একটি পার্টি থ্রো করেছিলেন। উদ্দেশ্য, একটি ঘোষণা দেওয়া। সেই ঘোষণাটি হলো, সেদিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মেয়েকে সে ধর্ষণ করেছে। এই ধর্ষণের মাধ্যমে সে এক শত মেয়েকে ধর্ষণ করলো। এই ধর্ষণের মাধ্যমে তার ধর্ষণের সেঞ্চুরি পূরণ হয়েছে। মানিকের এই ঘোষণার সাথে সাথে ছাত্রদের মাঝে বুনো উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে। ঐ পার্টিতে দু’চারজন গর্বিত শিরে বলতে থাকে, কে কতটি ধর্ষণ করেছে।
ধর্ষণের সেঞ্চুরি সম্পর্কে ছাত্রলীগ নেতা মানিকের এই ঘোষণা পরদিন সংবাদপত্রে ব্যাপক কাভারেজ পায়। এই সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর সাধারণ জনগণ এবং জাহাঙ্গীর নগর বিশ^বিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে ব্যাপক ক্রোধ ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়। বিবেকবান মানুষ একে অপরকে প্রশ্ন করতে থাকেন, এ আমরা কোন দেশে বাস করছি? আমরা কি আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগে ফিরে গেলাম?

গত বছর ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে ভোট না দিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার কারণে ৪ সন্তানের জননী ৩৬ বছর বয়স্কা গৃহবধূকে আওয়ামী লীগের ১২ জন পান্ডা ঘর থেকে বের করে নিকটস্থ মাঠের মধ্যে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এই মহিলাটির বাঁচার কথা ছিল না। কিন্তু রাখে আল্লাহ মারে কে? মহিলাটির হায়াৎ ছিল, তাই সে বেঁচে যায়। আজ ৩ মাস হয়ে গেল এই পাশবিক ধর্ষণের নায়ক রুহুল আমিনকে সকলের বিস্ময় উৎপাদন করে আদালত জামিন দিয়েছিল। সাথে সাথে মিডিয়া এবং বিবেকবান মানুষরা এই জামিনের বিরুদ্ধে শোরগোল শুরু করলে উর্ধ্বতন আদালত তার জামিন বাতিল করে। এই ঘটনা থেকেই বোঝা যায় যে, ধর্ষণ এবং গণধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধকেও সমাজের একটি শ্রেণী কত হালকাভাবে গ্রহণ করছে। নোয়াখালীর সুবর্ণচরে সংঘটিত ঐ গণধর্ষণের ঘটনার পর ৩ মাসও অতিক্রান্ত হয়নি। আবার একই জেলার একই গ্রামে অর্থাৎ সুবর্ণচরে এক সপ্তাহ আগে আর একটি গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এবার ভিকটিম হলেন ৪ সন্তান নয়, ৬ সন্তানের জননী এক গৃহবধূ। উপজেলা নির্বাচনে দুই ব্যক্তি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। দুইজনই আওয়ামী লীগার। একজনকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নমিনেশন দিয়েছে আর একজন নমিনেশন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছে। ঘটনার ভিকটিম এই দুইজন প্রার্থীর একজনকে ভোট দিলে অপর প্রার্থী তার উপর প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য তার ওপর গণধর্ষণ চালায়। এই ঘটনা থেকে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, যদি সুবর্ণচরের ৪ সন্তানের জননীর গণধর্ষণের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হতো অথবা জনগণ দুরমুজ পার্টি গঠন করে এ্যাকশন নিতেন তাহলে সুবর্ণচরে গণধর্ষণের দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটতো না।

১২ এপ্রিল ১৯