প্রথম সারিতে বাঁ থেকে সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম ও শাহ মাহবুবুর রহমান দ্বিতীয় সারিতে বাঁ থেকে অর্জুন লঙ্কর, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান

স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের ভেতরে ধর্ষণের শিকার নারী (২০)তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। রোববার বেলা দেড়টার দিকে সিলেট মহানগর হাকিম তৃতীয় আদালতের বিচারক শারমিন খানম নিলার কাছে উপস্থিত হয়ে তিনি ২২ ধারায় ঘটনার জবানবন্দি দেন। বেলা সোয়া তিনটার দিকে তাঁর জবানবন্দি দেওয়া শেষ হয়।
এ সময় ওই তরুণীর সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য ও তাঁর স্বামী উপস্থিত ছিলেন।এমন কাজের ধিক্কার জানানোর ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। সিলেটের মুরারিচাঁদ কলেজ ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের নরপশুদের দ্বারা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় কলঙ্কিত সিলেটের পবিত্র ভূমি। ছাত্রলীগ নামের সাথে ধর্ষণের তিলক স্বাধীনতার পর থেকে। আর শিক্ষাঙ্গনে যত ধর্ষণ ঘটেছে সবকটিতে এই প্রভাবশালী ছাত্র সংগঠনের নাম বারবার ওঠে এসেছে পত্র পত্রিকায়।মুরারিচাঁদ কলেজে যে অপরাধ ঘটেছে তা মোটেও বিচ্ছিন্ন নয়। এরকম নিকৃষ্ট ঘটনা সারা দেশে অহরহ হচ্ছে। এর মূলে রাজনৈতিক প্রভাব অনেক বড় ভূমিকা পালন করছে।

আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আছে টানা ১২ বছর ধরে। এই ১২ বছরে শুধু এমসি কলেজ ও টিলাগড় পয়েন্টকেন্দ্রীক তাদের আভ্যন্তরীণ কোন্দলে মারা গেছে তাদের দলের এক ডজন নেতাকর্মী। একটিরও বিচার হয়নি। টিলাগড়কে সিলেটের ডেঞ্জার জোনে পরিনত করা হয়েছে। যে টিলাগড়ে ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ ও সিলেট সরকারী কলেজ অবস্থিত। যে পয়েন্টটি প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত হয়। ক্ষমতাসীন দলের দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির কারণে সেই টিলাগড় পয়েন্ট এখন আতংকের জনপদ।এই ত কয় বছর হলো। এই ছাত্রাবাসটিকে পুড়িয়ে দিয়েছিল ছাত্রলীগ নামের কতিপয় হিংস্র জানোয়ারের দল। সেই ক্ষত এখনো শুকায়নি। আবারো ছাত্রলীগের কতিপয় লম্পটদের নগ্ন থাবায় বিধ্বস্ত হলো শতবর্ষের ঐতিহ্যের স্মারক এমসি ছাত্রাবাসের দীর্ঘদিনের লালিত গৌরব।বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এরা ক্ষমতাসীনদের পৃষ্টপোষকতায় খুন, ধর্ষণ , অপহরণ, ডাকাতি, চাদাবাঁজী, লুটপাট, মাদক সেবন ও অবৈধ অর্থ উপার্জনে লিপ্ত হয়।

২০১২ সালের ৮ জুলাই ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবির সংঘর্ষের জের ধরে আগুন দিয়ে পোড়ানো হয়েছিল এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের ৪২টি কক্ষ। পুড়ে যাওয়া ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে তখনকার শিক্ষামন্ত্রীকে কাঁদতে দেখেছি। কান্নাটি কি গ্লানির কান্না ছিল? না কান্নাটি কোন অসহায়ত্বের কান্না ছিল? আমরা টের পাইনি।

২০১২ সালে হোস্টেল পুড়িয়ে দেওয়ার পর ৬ কোটি টাকা খরচ করে নতুন ভবন নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পোড়ানোর ঘটনার বিচার তো হয়নি। এরপর থেকে ছাত্রলীগই এককভাবে ছাত্রাবাসে আবাসিক ছাত্রদের বসবাস নিয়ন্ত্রণ করছে বলে সংবাদ এসেছে। যদিও এমসি কলেজে ছাত্রলীগের কোনো কমিটি নেই। সিলেটে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটিও কেন্দ্র থেকে স্থগিত রয়েছে।ছাত্রলীগ নেতাদের দ্বারা বাংলাদেশে যত বর্বরোচিত ঘটনা ঘটেছে তার দ্বায়ভার সংগঠনটি সবসময় এড়িয়ে যায়।
শনিবার সকালে ৯ জনকে আসামি করে শাহপরাণ থানায় গণধর্ষণের শিকার তরুণীর স্বামী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।এজহারনামীয় আসামিরা হলেন এম. সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেক আহমদ, অর্জুন লঙ্কর, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান। এদের সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। আসামিদের মধ্যে তারেক ও রবিউল বহিরাগত, বাকিরা এমসি কলেজের ছাত্র।


এমসি কলেজ কর্তৃপক্ষ এর দ্বায়ভার কোনভাবে এড়িয়ে যেতে পারেনা। সরকারের নির্দেশনা অমান্য করেই কলেজের কর্তৃপক্ষ ছাত্রাবাসে থাকার সুযোগ করে দিত বহিরাগতসহ কলেজ শিক্ষার্থীদের। এমসি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সালেহ উদ্দিন বলেন, করোনা পরিস্থিতি সরকারি নির্দেশনা পাওয়ার পর পরই কলেজ ও ছাত্রাবাস বন্ধ করে দেয়া হয় নোটিশ দেয়া হয়।এর পরেও এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে প্রভাব খাটিয়ে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে থাকত ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মীরা। সবকিছু জানার পরেই মুখ বন্ধ করে থাকতে হত কলেজ কর্তৃপক্ষের। বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষের জানা থাকলেও কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

আজ এমন ঘৃণ্য তৎপরতায় যারা মেতে উঠেছে তারা কি একবারও ভাবেনা ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। যারা সন্ত্রাসী লম্পটদের মদদ দিচ্ছেন। তারাও কি ভাবেন না যে ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। অনেক হয়েছে এবার ক্ষান্ত দিন। মনে রাখবেন আপনাদের ঘরেও মা-বোন মেয়েরা রয়েছে। অন্ততপক্ষে সেই মা-বোন ও মেয়েদের দিকে তাকিয়ে গণধর্ষণের মতো ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর হাতে তুলে দিন। আর যদি এসব ধর্ষকদের বাচানোর চেষ্টা করেন। তাহলে এই লম্পটগুলা আপনার পরিবারের মেয়েদের দিকেও হাত বাড়াবে।

বিচার আজ নিবৃতে কাঁদছে। সচেতন দেশবাসীর প্রতি আহ্বান শুধু বিচার বিচার চাই বলে চিৎকার করে লাভ নেই। এর জন্য আমাদের সবাইকে এক হতে হবে। দুর্বৃত্তদের কবল থেকে পূণ্যভুমি সিলেটকে রক্ষা করতে হবে। সিলেটের ইতিহাস ঐতিহ্য বিনষ্টকারীদের রুখে দিতে হবে। আমরা বীরের জাতি। আমরা বহু দুর্যোগ, বহু ক্রান্তিকাল পাড়ি দিয়ে এই অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছি। এজন্য চাই সকলের একটি উদ্যোগ ও একটু প্রচেষ্ঠা ঐক্যবদ্য আন্দলোন। এবার আমরা বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ।