নিউ ইয়ার্স রেজোলিউশন নেওয়ার সময় আমাদের বেশিরভাগেরই মনে থাকে না টু-ডু লিস্টের প্রজেক্টগুলো করা সম্ভব কিনা। ব্যক্তির ক্ষেত্রে যেমন রাজনৈতিক দলগুলোর বেলায়ও তাই।সালতামামিতে দেখা যায় কিছু কাজ বাকি থেকেই যায়। আবার কিছু কাজ বা প্রজেক্ট কোনো ঘোষণা বা পরিকল্পনা ছাড়াই করতে হয়। নোবেল লরিয়েট মনস্তত্তবিদ ড্যানিয়েল কানেম্যান এই অচরিতার্থ কাজগুলো করতে না পারার বিষয়টির নাম দিয়েন ‘প্ল্যানিং ফ্যালাসি’। আওয়ামী-হেফাজত দোস্তি ‘প্ল্যানিং ফ্যালাসি’ বলা না গেলেও এটা ‘পলিটিক্যাল ফ্যালাসি’ তো বটেই।

দক্ষিণপন্থী ও প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিগুলো যেভাবে রাজনৈতিক সক্রিয়তা দেখাচ্ছে তা লক্ষ্য করার মতো। আশঙ্কার বিষয় হল, দেশের ধর্মীয় প্রতিক্রিয়াশীল দল ও শক্তিগুলো যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন নিজেদের যথেষ্ট শক্তিশালী মনে করছে। এর প্রতিক্রিয়ায় শাসক দল ও বিরোধী দল তাদের সঙ্গে এখন যেভাবে সমঝোতা করছে তা রীতিমতো অস্বস্তির কারণ গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসীদের জন্য। শুরুতে জামায়াতে ইসলামী, এর ধারাবাহিকতায় খেলাফতে মজলিস, ইসলামী শাসনতন্ত্র এবং সর্বশেষ হেফাজতে ইসলাম এখন বাংলাদেশের শাসকশ্রেণির সঙ্গে হাত মিলিয়ে রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

হেফাজতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আপসরফা নিয়ে জনপরিসর যখন সরগরম, তখন সরকার বলছে, হেফাজতের সঙ্গে তাদের সমঝোতা হয়নি (সেতুমন্ত্রী বলেছেন, এটা কৌশলগত, রাজনৈতিক আপসরফা)। হেফাজতে ইসলামও বিভিন্ন সময় ঘোষণা দিয়ে বলেছে যে, সরকারের শরীক নয় তারা, কিংবা আওয়ামী লীগের জোটেও নেই।