ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাগারে আটক লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর দায় থেকে প্রধানমন্ত্রী কীভাবে মুক্তি পাবেন, শুরুতে এমন প্রশ্ন ছিল তাদের কাছে৷ এই বিষয়ে অধ্যাপক মীজানুর রহমান মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর দায়ের প্রশ্নটি প্রাসঙ্গিক নয়৷ তিনি বলেন, ‘‘রাষ্ট্রের হেফাজতে যখন কেউ মারা যায়, রাষ্ট্রকেই এর ব্যাখ্যা দিতে হবে৷ ব্যাখ্যাটা আগে আসুক কীভাবে মারা গেলেন৷’’ তার মতে, দায় নেয়া মানেই ব্যাখ্যা দেয়া৷ কীভাবে মৃত্যু হলো, কেন মৃত্যু হলো সেই তদন্ত করতে হবে৷ জামিন পাওয়া মুশতাকের অধিকার ছিল৷ মুশতাকের সঙ্গে অন্যরা যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তারা মুক্তি পেয়েছেন, কিন্তু তিনি কেন মুক্তি পেলেন না সেটিও সংশ্লিষ্টদের জানাতে হবে৷

তবে বিষয়টি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন গোলাম মোর্তোজা৷ তিনি বলেন, ‘‘দেশ পরিচালনা করছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এককভাবে, এটা মোটামুটিভাবে একটা প্রতিষ্ঠিত সত্য৷ দেশে যদি ভালো সবকিছুর কৃতিত্ব এক জনের হয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হয়, তাহলে এর খারাপ বা নেতিবাচক যে-কোনো কিছুর দায় অবশ্যই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ওপরে পড়ে৷ তিনি নিজেও বিষয়টি অস্বীকার করবেন বলে আমার মনে হয় না৷”

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৬ মে লেখক মুশতাক আহমেদ ও কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরকে গ্রেপ্তার করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী৷ পরদিন ‘সরকারবিরোধী প্রচার ও গুজব ছড়ানোর’ অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তাদের বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলা করা হয়৷ কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে প্রকৃত অভিযোগ কী, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে৷ এই বিষয়ে গোলাম মোর্তোজা বলেন, মুশতাক আহমেদ বা একজন কিশোর ব্যক্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ নয়৷ মূলত ভয়ের সংস্কৃতি ও সেলফ সেন্সরশিপ যাতে তৈরি হয় সে কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে৷ এক্ষেত্রে ডিজিটাল আইন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কোনো প্রয়োজন নেই৷ বাংলাদেশে যে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করা হচ্ছে সেই ভয়ের সংস্কৃতির জন্য এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি ব্যবহার করা হচ্ছে৷ এই আইনটিকে ব্যবহার করে নিপীড়ন করা হচ্ছে, নির্যাতন করা হচ্ছে৷’’ তিনি মনে করেন, প্রচলিত আইনের মধ্যেই ডিজিটাল মাধ্যমের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব৷