গত সোমবার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গেলে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সেখানে প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়। সোমবারই তিনি করোনা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নেন সচিবালয়ের ক্লিনিকে।এরপর পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান।সেখানে সচিবালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের পিএস-এর রুমে আটক রেখে রোজিনাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয় এবং তিনি সেখানে অসুস্থ হয়ে লুটিয়ে পড়েন মেঝেতে।তাঁকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য বারবার বলা হলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে তাঁর তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়নি।  পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ তাঁকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়। ওই দিন রাত পৌনে ১২টার দিকে পুলিশ জানায়,রোজিনার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে দণ্ডবিধির ৩১৯ ও ৪১১  এবং অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩ ও ৫ ধারায়।তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।পরদিন মঙ্গলবার পুলিশ তাঁকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে দেন এবং রোজিনা ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার পরথেকে এই প্রথম রোজিনার বিরুদ্ধে ১৯২৩ সালের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের আওতায় রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।বর্তমান সময়ে এসেও একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ আমলের করা আইনে মামলা দায়ের সংশ্লিষ্টদের সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধের নেতিবাচক মনোভাব ও অশুভ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্বের চেষ্টার পাশাপাশি আগামী দিনের স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মত প্রকাশের জন্য হুমকি। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে এ ধরনের হীন চেষ্টা সংবাদপত্রের অস্তিত্বকে হুমকির দিকে ঠেলে দেয় ও পেশাকে চ্যালেঞ্জের দিকে নিয়ে যায়।

রোজিনা গত কয়েক মাস ধরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম , দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে রিপোর্ট করে আসছিলেন।স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি নিয়ে তাঁর প্রতিবেদন প্রকাশের পর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বরং যিনি প্রতিবেদন করলেন, তাঁকেই জেলে পাঠানো হলো।  রোজিনার প্রতি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের আচরণে ব্যক্তিগত আক্রোশ প্রকাশ পেয়েছে।

প্রকৃতপক্কে এই আইনটি সংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা যায়না।আর এই আইনটি তথ্য অধিকার আইনের পর মৃত হয়ে গেলেও ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মাধ্যমে আবার ফিরে আসে।যেটা সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হচ্ছে অনলাইন এক্টিভিস্ট, সংবাদ মাধ্যম এবং বিভিন্ন রাজনৌতিক দল গুলোর বিরুদ্ধে। তবে ফৌজদারি আইন এবং মানহানি আইনও ব্যবহার করা হচ্ছে ব্যাপকভাবে। পার্শবর্তী দেশ ভারতে গত কয়েক যুগে এই অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের আওতায় যতগুলো মামলা হইয়াছে তা  আদালত খারিজ করে দিয়াছে ।

মুলত রোজিনার  বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে সাংবাদিকতার কণ্ঠ রোধ করা এবং এর মধ্যেদিয়ে একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে ক্ষমতাসীন সরকার বা তাদের কোনো মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে কোনোকিছু লেখা বা বলা যাবেনা।